দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় আটজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে নেত্রকোনা ও দুর্গাপুরে পৃথক মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে এবং একই সময়ে দুর্গাপুর প্রেসক্লাব মোড়ে এসব মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাংবাদিক নেতারা হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।
এদিকে, সাংবাদিক আলিফ হত্যার ঘটনায় গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে দুর্গাপুর থানায় মামলা করেন তাঁর স্ত্রী অনন্দিতা সাংমা। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আটজনকে আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলুনজিয়া গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ওই গ্রামে নিহত সাংবাদিকের শ্বশুরবাড়ি। ঘটনার রাতে বাড়ির সামনের একটি দোকানে গেলে আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেওয়া দুই অজ্ঞাতপরিচয় যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছোড়ে।
পরে তাঁকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত সূত্রে জানা গেছে, তাঁকে ছয়টি গুলি করা হয়েছিল। এর মধ্যে পাঁচটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং একটি গুলি পিঠে আটকে ছিল।
নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি আইপি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন।
ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, নিহতের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসাও উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশসহ একাধিক দল কাজ করছে।
এমএস/